ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংস্কারের নামে শুধু কাঁটা দেখাচ্ছে সরকার: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখনও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি এবং ‘সংস্কারের’ আড়ালে কেবল মাত্র কাঁটা দেখাচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে কৃষক দলের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করা হয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘সংস্কারের নাটক আমরা কতবার দেখেছি! প্রথম দফা উদ্বোধন, এরপর দ্বিতীয় দফা, এবং এখন আবার তৃতীয় দফা উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু এর আসল অর্থ হলো সংস্কারের নামে সরকারের প্রহসন এবং জনগণের সামনে কাঁটা দেখানো।’’

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২ জুন জমা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু এর আগে আলোচনা যা হয়েছে তা সংকলন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘তারা শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে, বাস্তব পরিবর্তন হচ্ছে না। ২ জুন নতুন সংলাপের কী প্রয়োজন?’’

সালাহউদ্দিন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন, ‘‘সংস্কারের চেয়েও বেশি জরুরি ফ্যাসিস্ট അധিপতিদের বিচারের ব্যবস্থা করা। এটি এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’’

তিনি সরকারের আগের মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে বলে আপনাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু এখন তা থেকে পিছু হটে দুর্ভাগ্যজনক কথা বলেছেন।’’

২০১৫ সালের ১০ মার্চ উত্তরায় গোয়েন্দা পরিচয়ে অপহরণের শিকার সালাহউদ্দিন বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘আমাদের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। এসব ঘটনা কোনো গল্প নয়, আমরা সেগুলো সরাসরি মুখোমুখি হয়েছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য বিএনপি সংগ্রাম করছে।’’

প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে অসুবিধা প্রকাশের বিষয়েও তিনি কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন যে ‘সংস্কারের নামে কতদিন নির্বাচন পেছানো যাবে?’

নির্বাচন পেছানোর কোনও যুক্তি নেই বলেই জানান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণ দেখাতে পারেন না, তাহলে কেন নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করুন।’’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যাকে কখনো সম্পন্ন হওয়া বলা যায় না। কিন্তু এর নামে নির্বাচন পেছানো মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’’

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন, নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং কৃষক দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।