গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অবস্থিত একটি পুরনো সরকারি ভবনে ছাদের পলেস্তারা শঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দেয়ালের পলেস্তারে ছোট-বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ থেকে জল পড়ে অফিসকক্ষে ভাঙন ধরেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বর্তমানে আটটি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা কাজ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে উপজেলা হিসাব রক্ষক, মৎস্য, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস।
অতীতে ছাদের পলেস্তার বড় ধরনের খসে পড়ার ঘটনায় অফিসের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু অংশ অফিস সহকারী তমিজুর রহমানের ওপরও ছিটকে পড়েছে, যিনি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে গেছেন। এই ভবনের বিভিন্ন তলায় ফাটল ধরা পড়ার কারণে কর্মীরা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। একইসাথে, আশেপাশের পরিত্যক্ত পুরাতন ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা, সেবা প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের সূত্র মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই পুরাতন ভবনেই কাজ চালানোর কোনো বিকল্প না থাকায় সবাই বাধ্য হয়ে এখানে সরকারি কাজ করছেন। কর্মকর্তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস সহকারী জাহানারা খাতুন বলেন, ‘‘ছাদ থেকে খসে পড়া পলেস্তার অংশ আমার টেবিলের ওপর পড়ে গিয়েছিল, যা অনেকটাই আতঙ্কিত করেছে। দোহার অবস্থা এমন, যে দফতর থেকে বের হওয়া পর্যন্ত মনে হয় যেন সাথেই ভবন ধসে পড়ে। তাই দ্রুত নতুন অবকাঠামো করা প্রয়োজন।’’
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল বাছেদ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগ্রই ভবনের সমস্যাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহামেদ জানিয়েছেন, ভবনের শঙ্কাজনক অবস্থার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সকল সংশ্লিষ্টের দাবী, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে নতুন ও নিরাপদ একটি ভবন নির্মাণ করা হোক, যেখানে সরকারি সেবা নির্বিঘ্নেই দেয়া সম্ভব হবে এবং সবাই নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।







