বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া এলাকায় সোয়া ৬ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত গুলিশাখালী খালের ওপর গার্ডার সেতুটি কার্যত ব্যবহৃত হচ্ছে না। কারণ, সেতুতে সরাসরি ওঠার কোনও রাস্তা বা সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ মই বেয়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি তাদের জন্য একটি বড় ধরনের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৩ সালে বরগুনা এলজিইডির উদ্যোগে গুলিশাখালী, কুকুয়া ও চাওড়া ইউনিয়নকে সংযুক্ত করতে আমড়াগাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬.৭৭ মিটার প্রস্থের এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বরিশালের মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ত্রিপুরা জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে ২০২৪ সালের জুন মাসের আগেই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করে। তবে সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরির বিষয়টিতে জটিলতা দেখা দেয়। সেতুর পশ্চিম পাশে পূর্ব খেকুয়ানি গ্রামের চলাচলের জন্য যে সড়ক রয়েছে, তা সেতুর ডিজাইন এবং উচ্চতা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে বিরক্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।
অবস্থাটি সরেজমিনে যাচাই করে জানা গেছে, প্রায় ১১ মাস ধরে সেতুতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় আশপাশের ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যাতায়াতে বিরাট সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয়রা যাতায়াতের জন্য সেতুর পাশ দিয়ে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এক প্রকার মই বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বয়স্ক ও শিশুরা এতে সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ, সেতুতে কোনো ধরনের যানবাহন উঠতে না পারায়, পণ্য পরিবহন প্রায় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। পণ্য সরবরাহের জন্য বাধ্য হয়ে প্রায় দশ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে মহিষকাটা সেতু পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে যার ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয়। এতে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সকলেই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গুলাইশাখালী, চাওড়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের এক অপরিহার্য মাধ্যম এই সেতু। এই সেতু দিয়ে পার হয়ে হাজার হাজার মানুষ আমতলী সদর, বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চলাচলে বিপুল অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষভাবে পণ্য পরিবহন, রোগী ভরতি ও মরদেহ আনা-নেওয়ায় বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান এলাকার বাসিন্দারা।
ঠিকাদার মো. কাওছার মিয়া বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। সংযোগ সড়কের জন্য আলাদা দরপত্র হবে এবং সেটি যথাযথ প্রতিষ্ঠান করবে।” আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, “সেতুর উচ্চতা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক তৈরির ফলে পাশের একটি সড়ক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে সেখানে আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে মূল সড়কটি সচল থাকে। এর ফলে ব্যয় কিছুটা বেড়ে যাবে। বর্তমানে নতুন নকশা ও বাজেট তৈরি করে তা প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হবে এবং এলাকার মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা পাবে।









