ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনে কোনো সরকারী সিদ্ধান্ত হয়নি: আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের বিষয়ে কোনও সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার এইকমিশন গঠনের বিষয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার কারণে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। মন্ত্রণালয় তাই স্পষ্ট করে জানাতে চায় যে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইন উপদেষ্টা তার সর্বশেষ বক্তব্যে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল, ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সময়মতো আলোচনা করে এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, ‘‘জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের পক্ষ থেকে অনুশোচনা প্রকাশের পর এই ধরনের কমিশন গঠন করার কথা ভাবা যেতে পারে।’’ তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যারা মানবতা-বিরোধী অপরাধ করেছে তাদের জাতিগতভাবে বিচ্ছিন্ন এবং পরিত্যাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করতে এই কমিশনের প্রয়োজনীয়তা আছে।

এর আগে ১০ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. আসিফ নজরুল ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘দেশে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি দল দক্ষতা অর্জনের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে যাচ্ছে। দেশে ফিরে এই বিষয়ে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।’’

একটি মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, ‘‘জাতির মুক্তি অপ্রয়োজনীয় কলহ ও বিবাদ থেকে আসবে না, তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। যারা গণহত্যাসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, তাদের যথাযথ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা এই জাতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই এ ধরনের একটি কমিশন গঠন একান্ত প্রয়োজন।’’

আইন উপদেষ্টাও মন্তব্য করেছেন, ‘‘গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের চলচ্চিত্র মোকাবেলায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।’’

সার্বিকভাবে, সরকার এখনো ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, তবে সময় অনুযায়ী সর্বোত্তম ব্যবস্থা নেবে বলে মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে। জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে এবং নীতি গ্রহণের পূর্বে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে।