ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ে বিরল প্রজাতির গোলাপি হাতির বাচ্চা দেখা গেছে

রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড় এলাকায় নতুন এক বিরল প্রজাতির গোলাপি রঙের হাতির বাচ্চা দেখা গেছে, যা এক অনন্য ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ‘গোলাপি হাতি’ এর জন্ম বাংলাদেশের প্রাণিজগতের জন্য এক নতুন বিস্ময়। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাচ্চাটির বয়স দুই সপ্তাহেরও কম।

বরকল উপজেলার সুভলংয়ের বরুনাছড়ি ইউনিয়নের ফরেস্ট এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) প্রধান সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের গোলাপি রঙের হাতির পূর্বে কোনো দেখা পাওয়া যায়নি। রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড় এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টার স্পিডবোট যাত্রার পথ দিয়ে এই বিরল দৃষ্টিনন্দন হাতির দলকে দেখা যায়।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনিই প্রথম এই বিরল গোলাপি রঙের হাতি শাবকসহ একটি হাতির পাল কাপ্তাই হ্রদ পার হতে দেখেন। তিনি সেই দৃশ্যটি ভিডিও করে বন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের কাছে পাঠান। তার পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত জনসাধারণের নজরে আসে।

বর্তমানে বরুনাছড়ি এলাকায় মোট আটটি হাতি রয়েছে, যার মধ্যে আছে নতুন এই গোলাপি বাচ্চাসহ পাঁচটি একটি দলে, দুটি হাতি একসঙ্গে এবং একটি বড় হাতি। সদ্যজন্মা এই বাচ্চাটি অন্যান্য হাতির তুলনায় আলাদা হলুর গোলাপি রঙের। সাধারণত হাতির বাচ্চাদের গায়ে কালো লোম থাকে, কিন্তু এই হাতে অনেকটাই গোলাপি রং বিরল ও অনন্য।

রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার জানান, পাহাড়ের এই বিরল হাতি সংরক্ষণের জন্য বন বিভাগসহ ফরেস্ট বিভাগের ইআরটি দল নিয়মিত পাহাড়ে হাতিদের তদারকি করে থাকে। গত ১৩ জুন তারা এই গোলাপি হাতির বাচ্চার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আরও জানান, এই নতুন গোলাপি রঙের হাতির প্রতি বন বিভাগ বিশেষ নজর রাখছে।

হাতির বাচ্চাটির গায়ের রং গোলাপি হওয়ার পেছনে নিউট্রিশনজনিত কারণ থাকতে পারে বলে জানান বন সংরক্ষক, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানাতে কিছু সময় লাগবে।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান বলেন, হাতির সাধারণ গায়ের রং থাকে কালচে, তবে জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে রঙের ভিন্নতা দেখা যায়। এই গোলাপি রঙের হাতি একটি বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারনত এশিয়া অঞ্চলে অত্যন্ত কমই দেখা যায়। তিনি এ ধরনের বিরল হাতি সংরক্ষণে সরকারের গুরুত্বারোপ করেন এবং পূর্বে রাজাদের হাতিশালায় এমন হাতির বিশেষ সম্মান ছিলো।

অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান আরও বলেন, বর্তমানে পাহাড়ের বনাঞ্চল ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে উঠছে, যার ফলে বন্য হাতিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। তিনি বিরল প্রাণী সংরক্ষণের জন্য সরকারি বনভূমি সংরক্ষণ ও স্থানীয় উদ্ভিদ প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়রা জানান, গোলাপি হাতির বাচ্চাটি এখনও ছোট হওয়ায় তার মা ও অন্যান্য হাতিরা তাকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্নভাবে যত্নশীল। মাঝে মাঝে হাতির দল কাপ্তাই হ্রদের পার হয়ে চলাফেরা করে যা স্থানীয়দের কাছে নজরকাড়া দৃশ্য। তবে এই বিরল হাতি ও তাদের দলের নিরাপত্তার জন্য এলাকায় মানুষের অবাধ বিচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার দাবি উঠেছে। স্থানীয়রা একযোগে সরকারের কাছে উপজেলা ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দুর্গম কিন্তু বিরল প্রাণীর আবাসস্থল সরকারি ভাবে সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়ার आग्रह জানিয়েছেন।