ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চিরকুট লিখে ব্যবসায়ী নিখোঁজ, রেললাইনে লাশ পাওয়া গেল

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চিরকুট লেখার পর নিখোঁজ হন জিয়াউর রহমান (৪৫), একজন স্থানীয় টেইলার্স ব্যবসায়ী। পরে তার লাশ রেললাইনের মাঝপাড়ার আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ৯ নম্বর ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলের দিকে তিনি নিখোঁজ থাকাকালে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান।

জিয়াউর রহমান ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর সারুটিয়া ওয়াবদা এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাঙ্গুড়া বাজারে সেঞ্চুরি টেইলার্স নামে এক প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকেই তিনি তার দোকানে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. ইজাজ হোসেন খাবার নিয়ে গিয়ে বাবাকে সেখানে পাননি। আশেপাশেও খোঁজ চালানো হয়, কিন্তু কোনও সূত্র মেলেনি। এ সময় তার টেবিলের ভাঁজ করা কাগজের উপর নজর যায় পরিবারের লোকজনের— এটি একটি চিরকুট, যেখানে লেখা ছিল, ‘দোকান-সংসার চালাইতে পারলাম না, তাই দুনিয়া ত্যাগ করিলাম। কেউ দায়ী নয়।’ নিচে তার নাম ও তারিখ লেখা ছিল, ১৯/১১/২০২৫।

চিরকুট পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে, তবুও কোনও তথ্য পায়নি। মুহূর্তে পুরো এলাকা উদ্বেগে ভরে উঠে, আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

জিয়াউর রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। টেইলারিংয়ের কাজ বেশি সময় লাগে, ফলে তার ছোট ছেলে প্রায়ই তাকে বকাঝকা ও মারধর করত। তার মতে, এ কারণেই তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন।

নিখোঁজের ঠিক তিন ঘণ্টা পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মাঝপাড়া রেলওয়ে ব্রিজের কাছে ট্রেনে কাটা লাশের কিছু দেখে স্থানীয়রা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে পরিবারের লোকজন ও পুলিশ এসে ধরা পড়ে লাশটি জিয়াউর রহমানের।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি বলেন, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এর আগেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালে আটঘরিয়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, এই ঘটনাটি রেলপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় লাশ সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।