ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মুশফিক-লিটনের সেঞ্চুরির পর মিরপুরে বোলারদের দাপট

আন্তর্জাতিক टेस्ट ক্রিকেটের দ্বিতীয় দিন মিরপুরে আরও একবার স্পোর্টসপ্রেমীদের দেখাল বাংলাদেশের বোলাররা তাদের ডিপার্শনের পারফরম্যান্স। অ্যালাউট করে খেলার শেষ অবধি তৃষ্ণা মেটাতে না পারলেও, বাংলাদেশ দলের বোলাররা আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের দাপট দেখিয়েছে, বিশেষ করে বল হাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।

আজকের দিনটা ছিল বাংলার জন্য গর্বের দিন। প্রথমে ধ্রুপদী ব্যাটিং অসাধারণ প্রত্যাশায়, শুরুতেই স্বপ্ন দেখালেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ান ডে-টু অ্যান্ড অব দ্য ওভার শেষ করে শততম টেস্টে উঠে শতকের দেখা পেলেন তিনি। ১০৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৫টি চার মারেন। এই নজরকারা ইনিংসের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার কীর্তি অর্জন করেছেন। এ মিলিত হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে, মমিনুল হকের সাথে তাঁর ১৩টি সেঞ্চুরির মালিকানা।

অন্যদিকে, রেকর্ড গড়ে লিটন দাসও অনন্য ভূমিকা পালন করেন। পঞ্চম শতকের জন্য ৮টি চার ও ৪ ছক্কায় ১২৮ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম শ্রেণির ১০০তম ম্যাচে পাওয়া এক অনন্য অর্জন। এই দুটি ইনিংসের জন্য মোহনীয় এক সংগ্রহ তৈরি হয় যা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তিতে দাঁড়ায় ৪৭৬ রানে।

তবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা গুটিয়ে গেলে তাতে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৭ রানে আউট হলে, ধাক্কার মুখে পড়ে যান দলের ব্যাটসম্যানরা। এর পরই লেজের ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কা ঝড়ে বিদায় নেয়। শেষ ৫ উইকেট তারা হারায় মাত্র ৪৩ রানে।

এদিকে, অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং ধসে পড়ে। প্রথমে দলীয় ৪১ রানে ওপেনার পল স্টার্লিং আউট হয়ে যান। এরপর ব্যক্তিগত ২৭ রানে এলবিডব্লিউ হন তিনি। খালেদ আহমেদ বাউন্ডারি দিয়ে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন। পরে, স্পিনাররা বেশ জোরালোভাবে লড়েছেন। হাসান মুরাদ সর্বোচ্চ ২ উইকেট সংগ্রহ করেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।

আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ। এক ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরির এই অনন্য কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এটি রেকর্ড সংখ্যক শতকের জুটি, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়ে এই ম্যাচকে আরো রঙিন করে তুলেছেন। বাংলাদেশ এই ম্যাচে খেলেছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, যার ফলে তাদের অনুভূতি ছিল আত্মবিশ্বাস, গর্ব এবং জাতীয় গর্বের।