ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

১৬ কোটি টাকার বাস টার্মিনাল অচল, পারে না কাজে আসতে

অচল অবস্থায় পড়ে আছে যশোরের বেনাপোলের ট্রান্সপোর্ট টার্মিনালটি, যা ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও আজ পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবহারের সুযোগ পায়নি। এই টার্মিনালটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাসের সুবিধাজনক ব্যবস্থা করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা, তবে এখন এটি খাঁখাঁ করছে বলে জানা গেছে। ২০১৭ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত এই টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হলেও এখান থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায় না, কোনও বাস দাঁড়ায় না, ফলে এটি নির্মাণের পর থেকে একদিকে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে, এই টার্মিনালটি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, যা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে এই ভবনে মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনা ঘটে থাকে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সেবনকারীরা রাতভর এখানে আড্ডা দিতে আসে। যদি বাসগুলি চালু থাকত এবং নিয়মিত যাত্রীর চাপ থাকত, তাহলে মাদকসেবীরা এই ঠাঁইতে আর আসতে সাহস পেত না।

বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কাগজপুকুর পর্যন্ত এই বাস টার্মিনালটি নির্মাণের মূল লক্ষ্য ছিল যানজট কমানো, বিশেষ করে দেশের প্রধান স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কারণে দৈনিক হাজার হাজার মানুষের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াতের জন্য। তাই এই এলাকায় যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নতুন একটি টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। মাত্র ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি ২০১৭ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করেন, কিন্তু এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কেবল শৈল্পিকভাবে রয়ে গেছে, ব্যবহৃত হয়নি। মালিক-শ্রমিক এবং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির রক্ষণশীল বা নিজের স্বার্থ অনুসারে, তারা এখনও পুরনো নোম্যান্সল্যান্ডের কাছাকাছি বাস অবিরত চলাচল করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বেনাপোল পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নতুন এই টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেন। এতে আধুনিক সুবিধা যেমন নামাজের স্থান, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। তারপরও, বাস মালিক ও শ্রমিকরা নতুন টার্মিনাল ব্যবহার না করে ইমিগ্রেশনের আশেপাশের স্থানে, বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালিত টার্মিনালে বাস নিয়ে যান। তাদের দাবি, মূল টার্মিনালটি কেবল আন্তঃদেশীয় বাসের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর বেনাপোলের পৌরসভার প্রশাসক ডা. কাজী নাজিব হাসান জানান, তিনি এই টার্মিনালটি চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে আধুনিক সুবিধাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু মালিক ও শ্রমিকেরা এই সুবিধাগুলো ব্যবহার না করে পুরনো পন্থায় চলাচল করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। যার কারণেই এই অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।