ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশে এডিবির সঙ্গে ১৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি, চার প্রজেক্টে অর্থায়ন নিশ্চিত

বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন অবকাঠামো ও ব্যাংক খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

শুক্রবার, ২০ জুন, রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার এবং এডিবির মধ্যে এই ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদির সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদির সিদ্দিকী বলেন, “এই ঋণ চুক্তি আমাদের জলবায়ু প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এডিবির সহায়তায় আমরা জাতীয় অগ্রাধিকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে যেতে পারব।”

ঋণচুক্তির আওতায় চারটি প্রধান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, ৪০ কোটি ডলারের ‘জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি (সিআরআইডিপি)’ যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, নির্গমন হ্রাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশের পাশাপাশি এজেন্সি ফ্রান্সেস ডি ডেভেলপমেন্ট (এএফডি) থেকে প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে ৪০ কোটি ডলার সহ-অর্থায়ন পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত, ২০ কোটি ডলারের ‘বিদ্যুৎ সঞ্চালন শক্তিশালীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি একীকরণ প্রকল্প’। এর আওতায় বগুড়া, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, হবিগঞ্জ, পিরোজপুর ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন কাজ চালানো হবে, যা নির্ভরযোগ্য ও সবর্দিকবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে।

তৃতীয়ত, ঢাকা উত্তর-পশ্চিম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে, যা দেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। ভুটান, ভারত ও নেপালের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করতে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পে জলবায়ু সহনশীল ডিজাইনসহ জেন্ডার-সেন্সিটিভ বৈশিষ্ট্য যেমন ফুটব্রিজ ও মোটরবিহীন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের জন্য ৫০ কোটি ডলারের একটি প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি ব্যাংক খাতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে আর্থিক সম্পদের মান উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় প্রকল্পটি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, “এই সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

সার্বিকভাবে, এই ঋণ সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।