ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিবন্ধনের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড়

নিবন্ধনের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড় লক্ষ্যণীয় রূপ ধারণ করেছে। রবিবার, ২২ জুন সকাল থেকে নির্বাচন ভবনে বিপুল সংখ্যক দলের শীর্ষ নেতারা নিজে এসে নিবন্ধনের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত অন্তত দুই ডজন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে তাদের আবেদন পেশ করেছে।

আবেদনপত্র জমা দেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি), গণদল, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা), বাংলাদেশের রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), সমতা পার্টি, ফরায়েজি আন্দোলন, সিটিজেন পার্টি, ইসলামী ঐক্য জোট, নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনবিপি), জাগ্রত জনতা পার্টি, গণ বিপ্লবী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ফেডারেশন, জনতার দল, মুক্তিযোদ্ধা জনতা পার্টি, সাম্যবাদী দল (এমএল), নাগরিক পার্টি (বিএনপি), জাতীয় ন্যায়বিচার পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি) নির্বাচন কমিশনে ‘হাতি’ প্রতীক চেয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। দলটির মহাসচিব শওকত মাহমুদ জানান, বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন বেশ কঠোর হওয়ায় আবেদন করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। যদিও কমিশন নির্বাচনী সংস্কারের সুপারিশ করেছে, তা কার্যকর হয়নি, তবুও জেপিবি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছে এবং নিবন্ধনের ব্যাপারে আশাবাদী। দলটি নির্বাচন সংস্কারের পক্ষে এবং ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অপর একটি দল জনতার দল ‘চাবি’ প্রতীক চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। দলের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল এবং সদস্যসচিব আজম খান নিজে এসে আবেদন জমা দিয়েছেন। শামীম কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছি এবং জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করেছি। এখন সিদ্ধান্ত কমিশনের ওপর নির্ভর করছে।’

এদিকে, বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন ১০ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে আবেদন আহ্বান করেছিল, যা পরে ২২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এই সময়ের মধ্যে মোট ৬৫টি দল আবেদন করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশ-১৯৭২-এর ধারা ৯০(ক) অনুযায়ী নতুন দল নিবন্ধিত হয় এবং নিবন্ধিত দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে অংশগ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে ইসির তালিকায় মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালতের আদেশ অনুসারে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।