ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

এফএ কাপ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিদায়, শিরোপা শূন্যতার মুখে রেড ডেভিলরা

নতুন বছর ২০২৬ শুরুতেই মোদ্দা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য। গত বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্দীপনা এবং ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন দলটির সমর্থকরা, তবে মাত্র ১১ দিনের মাথায় সেই আশা কার্যত ধুলোয় মিশে গেছে। গত রাত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের কাছে ২-১ ব্যবধানে হার মানে ইউনাইটেড, এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এফএ কাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাইটনের কাছে হারের স্বাদ পেল ইউনাইটেড।রুবেন আমোরিমকে বরখাস্তের পর দলের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়, আর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ড্যারেন ফ্লেচারও শেষ ম্যাচে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের প্রথমাংশে, ১২ মিনিটে ব্রাইটনের ব্রায়ান গ্রুডার গোল বাড়িয়ে তোলে তাদের এগিয়ে দেয়। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পাননি স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে, ৬৫ মিনিটে শেষ পর্যন্ত দলের দিক থেকে বিষাদের সূচনা করেন ড্যানি ওয়েলবেক, তাঁর দুর্দান্ত শটে ব্রাইটনের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এটি তাঁর শৈশবের ক্লাবের বিরুদ্ধে অষ্টম গোল ছিল। এরপর, ৮৫ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর ফলে মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে, দলের ক্ষতি হয় আরও বেশি। শেষ পর্যন্ত, ১৮ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা শিয়া লেসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়েন, এবং ইউনাইটেডের জন্য এই পরাজয় সম্পূর্ণ হয় দুঃখজনক পরিস্থিতিতে। এই হার বেশ কিছু নতুন রেকর্ডের জন্ম দেয় ইউনাইটেডের ইতিহাসে। ১৯৮১-৮২ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো তারা লিগ কাপ ও এফএ কাপ—উভয় ঘরোয়া টুর্নামেন্টের প্রথম বাধা পার করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে, এই মৌসুমে মোট ৪০টি ম্যাচ খেলতে পারবে দলটি, যা তাদের ১১১ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এখন দেখার বিষয়, কোন স্থায়ী কোচ দায়িত্ব গ্রহণ করেন—অতঃপর তাঁকে শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লিগের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তবে সেখানেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে তারা এখন ১৭ পয়েন্ট পিছিয়ে। অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির হ্যাটট্রিকে পোর্টসমাউথকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে যেতে সক্ষম হয়েছে আর্সেনাল। এই পরিস্থিতিতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তরা গভীর হতাশা এবং ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।