ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রেস্তোরাঁ মালিকদের সংবাদ সম্মেলনে গ্যাস ও মূল্যস্ফীতি সহ ছয় সমস্যার আলোচনা

বাংলাদেশের রেস্তোরাঁ শিল্প বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখোমুখি। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ না হতেই তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক সংগঠন দ্বারা হয়রানি ও চাঁদাবাজি—এসবসহ মোট ছয়টি বড় সমস্যায় পড়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। এই পরিস্থিতি নিরসনে তারা সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসানসহ আরও অনেক সদস্য এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান হাসান জানান, বর্তমানে দেশে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা দাম বাড়িয়ে তুলছে, ফলে বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তারা উপযুক্ত দামের চেয়ে বেশি ব্যয় করে অবস্থা সামাল দিচ্ছেন। “প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়,” বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলার ব্যর্থতা, সরকারের গোপনীয়তা এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের অকার্যকারিতার কথাও তুলে ধরা হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে সব অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের অবসান হবে। কিন্তু এক বছরে অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, এর প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ খাতেও—সংকট আরও গভীর হচ্ছে।”

অতীতে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বিকেন্দ্রীকরণ ও এক্সক্লুসিভ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এই ব্যবসা এখন কেবল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে পরিচালিত হচ্ছে, যা রেস্তোরাঁ খাতে প্রতারণা ও হুমকি সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্নার খরচ বাড়ার কারণে অনেক রেস্তোরাঁ চালাতে পারছে না, দাম বাড়াতে বাধ্য হলেও গ্রাহকদের সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে, ফলে তাদের ব্যবসা হারানোর আশংকা বেড়ে চলেছে।

একইসাথে শ্রমিক সংগঠনের নামে নানা অপকর্ম—হুমকি-ধামকি, চাঁদাবাজি, শারীরিক হামলা—মালিক ও কর্মচারীদের ক্ষেপণ করেছে, যা রেস্তোরাঁ শিল্পের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল, এই সেক্টরটি দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা, ট্রেড ইউনিয়নের নামে অরাজকতা বন্ধ, মূলসূচক মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভোক্তা পর্যায়ের জন্য খাবারের দাম সাশ্রয়ী করা। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, নির্বাচনী ইশতেহারে রেস্তোরাঁ সেক্টর রক্ষার জন্য আলাদা ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করতে।

সংক্ষিপ্তভাবে, এই শিল্পে বর্তমানে ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষে যুক্ত। ভবিষ্যতে এই খাতে রেকর্ড ৩০ শতাংশ লোকের জীবনযাত্রা নির্ভর করবে। মালিকরা সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় না, ব্যবসা পরিবেশের উন্নতি না হয় এবং গ্যাস সংকটসহ সব সমস্যা সমাধান না হয়, তবে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পথে নামতে বাধ্য হবে।