ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বেগম খালেদা জিয়া কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে জীবনভর এই সংগ্রামে অবিচল থেকেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, কখনোই এই প্রসঙ্গে আপস করেননি।

তিনি আজ (১৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদুল হাসানের পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বরাদ্দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। তার নিরলস প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি হতে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ।

আমীর খসরু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর এক সাধারণ গৃহবধূর স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়েও তিনি গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় অটুট ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন, জীবনের শেষ দিনেও দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সমাজচেতন জনগণের কাছে তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে।

প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের বাইরে ইউএসটিসি, ডায়বেটিক হাসপাতাল, কিডনি হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা চালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া, তাঁর আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আইসিইউ, ক্যান্সার বিভাগের ওভাল মেশিন। এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগের কারণে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরসহ অন্যরাও।