বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি দীর্ঘ দিন ধরে রূপালি পর্দার বাইরে থাকলেও বর্তমানে তিনি আলোচনায় আছেন একটি ব্যক্তিগত বিষয়ের কারণে। এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের এক কষ্টদায়ক অধ্যায়। তিনি স্বীকার করেছেন যে, স্বামীর অবহেলা ও নির্মম আচরণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে, যখন প্রত্যাশা ছিল সুখের মুহূর্ত উদযাপনের, তখন পিটার হাগ নামে স্বামী তাকে উপহার দেওয়ার পরিবর্তে বিখ্যাত ডিভোর্স নোটিশ হাতে তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন সেলিনা। এই ঘটনায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজ আত্মদর্শণের কথা জানিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সেলিনা জানাচ্ছেন, ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে, যখন তাদের বিবাহবার্ষিকী ছিল। ওই দিন স্বামী তাকে জানান যে, তার জন্য একটি বিশেষ উপহার আসছে এবং সেটি সংগ্রহ করতে তারা কাছের পোস্ট অফিসে যেতে হবে। প্রেম ও ভালবাসায় ভরপুর মনে করে তিনি গাড়িতে চড়ে সেখানে যান। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন পোস্ট অফিসে পৌঁছেছেন, তখন তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বিবাহবিচ্ছেদের আইনি কাগজপত্র, যা তিনি কখনোই প্রত্যাশা করেননি। এই মুহূর্তটি ছিল আনন্দের পরিবর্তে এক দুঃস্বপ্নের মতো।
এছাড়াও, বাংলাদেশী এই অভিনেত্রী অস্ট্রিয়ায় তার শেষ দিনগুলোর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেছেন। তার ভাষায়, পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে উঠেছিল যে, তিনি ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টার দিকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। স্থানীয় মানুষের সহায়তায় অস্ট্রিয়া থেকে পালান তিনি, কিন্তু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তখন খুব কম অর্থ ছিল। অর্থাৎ, তিনি নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
এই অভিনেত্রী আরও জানাচ্ছেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বিবাহের অনেক আগেই ২০০৪ সালে কেনা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপরও এখন পিটার হাগ দাবী করছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে তার তিন সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেলিনা অভিযোগ করেছেন, তার সন্তানদের মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যাতে তারা মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, স্বামীর বিরুদ্ধে নিজের ও সন্তানদের অধিকার আদায় করতে।









