ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সিরিয়ায় কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি: প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সৃষ্টি করে দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা জারি করেছেন, যা বেশিছু দিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় কুর্দি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলো এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কুর্দি নাগরিকদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হলো। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্টের এই নতুন আদেশের ভিত্তিতে সিরিয়ায় কুর্দি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেল। ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে কুর্দি পরিচয় সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এরআগে কেবল আরবিরই রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি ছিল; তবে এখন থেকে কুর্দি ভাষা আলাদা স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়াও, দেশের স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কুর্দি ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক বিজয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত বিতর্কিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিল, সেগুলো এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে না। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে যারা রাষ্ট্রহীন বা বিদেশি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন, তারা আবার স্বাভাবিক নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন। এছাড়া, এই আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য দূর করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্টদের কঠোরশাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এই নির্দেশনায়।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি অঞ্চল থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জরুরিভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে। আলেপ্পোর এই সংকট সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। ১৪ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের পটভূমিতে দেশকে এক নির্দেশের অধীনে একত্র করার রঙিন স্বপ্ন দেখছিলেন নেতা শারা, তবে কুর্দি শক্তিগুলোর প্রতিরোধের কারণে সেটি কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শারার ইসলামপন্থি সরকার ও কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস দূর করে বাস্তবসম্মত শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিক অবতীর্ণ হওয়ার আশার আলো দেখা যাচ্ছে।