ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রথমবার জনসমক্ষে বক্তব্য দিলেন জাইমা রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে अपना বক্তব্য রেখেছেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও নারীর উন্নয়নে নিজের অনুভূতি ও মতামত ব্যক্ত করেন। इस আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’। এতে তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, আমি ভিন্ন এক আবেগ এবং অনুভূতির মধ্যে আছি। এটি দেশের রাজনীতিতে তার প্রথম মুখোমুখি বক্তব্য। তিনি বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেন, তিনি এমন মানুষ নয় যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যা সমাধানের সবকিছু আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার জন্য সবার মধ্যে আন্তরিকতা থাকা জরুরি। মূলত তিনি সবার কথা শোনা, শেখা এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এই সভায় অংশ নিয়েছেন।

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও এর সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, সবাই একরকম নয়, প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তবে এই ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই একটাতেই বসলেন—দেশের উন্নয়ন ও মানুষের মঙ্গলচিন্তা। এই ভিন্নতা স্বীকার করে কথা বলার প্রক্রিয়াটিই হলো গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের অপরিহার্যতা তুলে ধরে জাইমা রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ নারীদের বাদ দিয়ে জাতি এগোতে পারে না। দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য নারীদের মূলস্রোতেও যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এই জন্য তিনি উল্লেখ করেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়াও, আলোচনাসভায় বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন নারীদের অর্থনৈতিক অপ্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বড় বাধা হলো অর্থের জোগান ও অ্যাক্সেসের অভাব। ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন যে, নারীদের ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, দেশের অগ্রগতির পর নারীরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন, সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।