ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাব লিভারপুল এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ছন্দহীনতা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি ক্লাবের মূল তারকা মোহাম্মেদ সালাহর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে এক বিব্রতকর রেকর্ড। পরিসংখ্যান বলছে, প্রিমিয়ার লিগের শেষ আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই হেরে গেছে অলরেডসরা। এই হারগুলো অধঃপতনের পাশাপাশি ক্লাবটির ইতিহাসে এক ধরনের দুঃখজনক দাগ কেড়ে নিয়েছে। এর আগে, ২০১২ সালে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা এখন আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই বিখ্যাত দুঃসময়ের কথা। মাঠের দৃশ্যাবলী এবং দলে চলমান সঙ্কট সমর্থকদের মনে আবারও ফিরিয়ে আনছে সেই অন্ধকার দিনগুলো।
অফরেকান কাপ অব নেশনসে ব্যক্তিগতভাবে ভালো ছন্দে থাকার পাশাপাশি, শিরোপা বা ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নই দূরের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে সালাহর মিসর দলটির জন্য। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা শেষে গত সপ্তাহে তিনি ফিরে আসেন লিভারপুল শিবিরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে মার্সেইয়ের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয়ে থাকা সত্ত্বেও, প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বোর্নমাউথের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সালাহ, যেখানে ৩-২ ব্যবধানে হার মানতে হয় লিভারপুলকে। এই পরাজয় ব্যবহারে সালাহর ব্যক্তিগত রেকর্ডে যোগ হলো এক লজ্জাজনক অধ্যায়।
লিভারপুলের ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করলে, ২০১২ সালের কথা মনে পড়ে যায়। তখন ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কুইটের সময় ক্লাবের দুঃখজনক পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছিল। সেই সময় কেনি ডালগ্লিশের অধীনে লিভারপুল ধুঁকে ধুঁকে শেষ করেছিল লিগ, এবং মৌসুমশেষে তারা শেষ করেছিল অষ্টম স্থানে। তখনও ক্লাবের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বর্তমান সময়ে, সালাহ শুরুর একাদশে থাকা ম্যাচগুলোতে হারিউঁনি হয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ব্রেন্টফোর্ড, ম্যানচেস্টার সিটি, নটিংহাম ফরেস্ট এবং সর্বশেষ বোর্নমাউথের বিপক্ষে। এর ফলে, লিভারপুলের সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সালাহর এই ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র জয় এসেছে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচেই তিনি মৌসুমের সর্বশেষ লিগ গোলটি করেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের অবস্থান বেশ দুর্বল। ২৩ ম্যাচ শেষে তারা ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে, যেখানে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। অন্যদিকে, শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকা ও শিরোপার দৌড়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা থাকলেও, ২০১২ সালের অনুকূল পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য এখনই কঠোর মনোভাব নিতে হবে লিভারপুলকে।








