ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত হলো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসে পণ্য খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গত রবিবার গভীর রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ঘোষণায় বলা হয়, আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধর্মঘট স্থগিত থাকবে। মূল কারণ হিসেবে জনস্বার্থ ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখে আন্দোলনকারীরা এই ছাড় দিয়েছেন। এর ফলে বন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং পণ্য পরিবহন আবার চালু হতে পারছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সময় আর দুর্ঘটনা এড়াতে তারা এই কর্মসূচি শিথিল করেছেন। তবে, এই স্থগিতাদেশ স্থায়ী নয়; বরং সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার সকালে বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) এর ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো দুবাইভিত্তিক কোম্পানির ইজারা বন্ধের দাবি নিয়ে কর্মচারীরা ধর্মঘট শুরু করেন। তবে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর আশ্বাস পরিস্থিতি শান্ত করতে বড় ভূমিকা পালন করে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার থাকায় এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

যদিও এই আশ্বাস আন্দোলনকারীদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হলেও, কর্মচারীদের ওপর নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক কার্যক্রমের কারণে অসন্তোষ রয়ে গেছে। গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি, এবং সাময়িক বরখাস্তের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা বেশ ক্ষুব্ধ। দীর্ঘ আলোচনা শেষে শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচন ও রমজানের কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বর্ধিত করবেন। তবে, ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে গ্রেফতারকৃত কর্মচারীদের মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানির সব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে। যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও কঠোর আন্দোলনে ফিরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচল হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মনে করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে ও রমজানে সাধারণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে গেলে বন্দর বন্ধ থাকলে দেশের বাজারে বিপর্যয় ঘটতে পারত। এখন আন্দোলন শেষে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ায় পণ্য খালাসের কাজ চলছে। এর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কি ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার ওপর। তবে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ স্পষ্ট করে বলেছে, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং কোনো ধরনের নিপীড়ন মেনে নেবে না। দেশের স্বার্থে এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য সকল পক্ষের সদয় বিবেচনার অপেক্ষায় এখন পাঠকরা।