ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আজ রোববার দুপুরের দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে এই গুঞ্জন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সরকার বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, তারা সাধারণভাবে এই খবর শুনেছেন এবং পুলিশ বাহিনীর ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রোববার সকাল থেকেই আইজিপি বাহারুল আলম তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমে ছিলেন। দুপুরে তিনি সচিবালয়ে যান ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেন। ওই সভা শেষ হতেই তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার এবং আইজিপি অফিসের কর্মীরাও এ ধরনের আলোচনা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। গুঞ্জন নিশ্চিত করতে আইজিপির ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পদত্যাগের এই গুঞ্জনের পেছনে কিছু পূর্বঘটে উদ্ভূত ঘটনা নতুন করে নজরে পড়েছে। জানুয়ারি মাসে বাহারুল আলম তাঁর সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন—তাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে তাঁর দায়িত্বকাল ও মেয়াদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বলে জানা গেছে। তরুণ কোনো কর্মকর্তাও বলছেন, সেই আলোচনার সঙ্গে আজকের গুঞ্জন যুক্ত হয়ে সাড়া ফেলেছে।

২০১৪ সালের পর থেকে পুলিশের শীর্ষস্থানে নিযুক্ত থাকা এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ২০২০ সালে স্বাভাবিকভাবে অবসরে যান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পর গত ২১ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে আবার দায়িত্বে আনা হয়েছিল। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী তার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বরে। যদি পদত্যাগের গুঞ্জন সত্যি হয়, তবে তিনি নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় নয় মাস আগেই পুলিশ প্রধানের পদ থেকেড়বেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে পুলিশের শীর্ষপদে এমন সম্ভাব্য পরিবর্তনকে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সবাই এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির আশায় আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখনই শেষ কথা বলবে, যখন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করবে।