প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব সামনে রেখে সকলকে প্রকৃতি ধ্বংস বন্ধ করতে এবং গাছ বেশি করে লাগানোর পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত।
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ২৫ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যদানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘প্লাস্টিক এক অত্যন্ত বিষাক্ত উপাদান, যা শুধুমাত্র মানুষের নয়, পৃথিবীর সব প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর। আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছি কারণ এর ক্ষতি ধীরে ধীরে হচ্ছে। সময় এসেছে আমাদের সক্রিয় হয়ে প্লাস্টিকের সমস্যার সমাধান করা।’
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা একটি নাগরিক-led আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন, যা শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করবে না। প্রত্যেক জনের ব্যক্তিগত দায়িত্ব রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষার। ‘আমার পরিবেশ আমার দায়িত্ব, ভালো পরিবেশ ছাড়া মানবজীবন অসম্ভব।’
অধ্যাপক ইউনূস গাছ কাটার প্রবণতা কমাতে এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিতে বিশেষভাবে জোর দেন, যাতে আগামী প্রজন্ম দূষণমুক্ত নদী ও সবুজ বনভূমি দেখতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, তরুণ সমাজ আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করছে, যারা পরিবেশ রক্ষায় নেতৃত্ব দিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও পরিবেশ দূষণ রোধে তরুণদের কর্মকা-ের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক থেকে নিজেকে মুক্ত করতে আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, পরিবেশের সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ কর্তব্য।’
প্লাস্টিকের পরিবেশ ধ্বংসের প্রভাব নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্লাস্টিক জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়াচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের জলাশয় ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এটি গভীর হুমকি তৈরি করেছে।
এছাড়া, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক থেকে মুক্ত না হলে আমরা আত্মঘাতী পথে এগুচ্ছি, কারণ এটি আমাদের চারপাশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’
পরিবেশ মেলা-২০২৫ ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণের জন্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি নির্মল ও সমৃদ্ধ পরিবেশ রেখে যেতে পারব।’’
অধ্যাপক ইউনূস পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনকে আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলছেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ মুক্তির প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’ তিনি বলেন, গত দশকে প্লাস্টিক ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বর্তমান সরকার প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ, পরিবেশবান্ধব বিকল্প উন্নয়ন এবং কঠোর নজরদারি। এছাড়া, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা চালু করা হয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অনেক এলাকা পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন, তাই এখনই সবাইকে সচেতন হয়ে প্রকৃতির সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। ‘আমাদের নিজস্ব পরিবেশ রক্ষা করা ছাড়া বিকল্প নেই।’









