ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টা উদ্বোধন করবেন বৃক্ষমেলা

আগামীকাল বুধবার সকালের ১১টায় ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৫’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’ এর উদ্বোধন করবেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করবেন এবং বৃক্ষরোপণ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সফল ব্যক্তিদের জাতীয় পুরস্কার তুলে দেবেন। পাশাপাশি, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে উপকার ভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করবেন তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী ২৫ জুন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার ধারাবাহিক আয়োজন শুরু হবে। পরিবেশ মেলা ২৫ থেকে ২৭ জুন চলার কথা থাকলেও বৃক্ষমেলা ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যাবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বছরের এই পরিবেশ দিবসের থিম রাখা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’, আর বৃক্ষরোপণ অভিযানের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’।

উপদেষ্টা জানান, এই উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে, পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, স্লোগান প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় বৃক্ষমেলা আয়োজন করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করা হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মোবাইলে এসএমএস প্রচারণা, ব্যানার স্থাপন এবং জনসম্পৃক্ত অন্যান্য কর্মসূচিও পরিচালিত হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর ব্লক বাগান এবং ৭২ হাজার ৫৮১ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান সৃজন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ কোটি ৬২ লাখ চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার উপকার ভোগীর মধ্যে ৫০৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

উপরন্তু, হাতি, শকুন, শাপলা পাতা মাছ, পরিযায়ী পাখি, হাঙর, ডলফিন ও ঘড়িয়াল সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আইন হালনাগাদ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং পূর্বাচল অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।