নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলোতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া খুব শিগগির تبدأ হবে। মন্ত্রী জানান, সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিকভাবে সক্রিয় করে তুলতে অত্যন্ত দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এবং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত গৃহীত হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকারের পদগুলো খালি থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের জন্য এই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন সরকার। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ওঠা ‘ভঙ্গুর অবস্থা’ এই অভিযোগকে তিনি নাকচ করে দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ নয়, যেমনটি প্রচার করা হয়। তাঁর ভাষায়, গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা উন্নত হয়েছে এবং অর্থনীতির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। ব্যাংকিংখাতের বিশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির আরও দ্রুত উন্নতি সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগ বা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মি . ফখরুল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, এটি একটি নীতিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়টির বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং পরে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সবাইকে জানিয়ে দেবে।
সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেখানে তিনি সবাইকে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো আপস করবে না। বিএনপি নেতা হিসেবে দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফেরার পর এই দ্রুত সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেরার আশার বাতিস্বরূপ। পুরোপুরি সুতরাং, নতুন সরকারের প্রথম দিনেই শাসনতন্ত্রের শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো তাঁর বক্তব্যে।








