ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা: চলতি বছরেই স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

আইনি জটিলতার কারণে গত বছর স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরে নেওয়া হবে—এই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জুনিয়র ও ইবতেদায়ি স্তরের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, সরকার বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রশ্নপত্র তৈরির প্রাথমিক কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং আশাপ্রকাশ করা হয়েছে যে, আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদের আগেই প্রশ্নপত্রকরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতির একটি বড় অংশ সম্পন্ন হবে।

এইবার পরীক্ষার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি। গতবারonly সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আপত্তি তুলে রিট করা হলে হাইকোর্ট পরীক্ষাটিতে স্থগিতাদেশ দেন। সেই শিক্ষা থেকে এবার সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধারার শিক্ষার্থীরাই একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একই দেশের নাগরিক হিসেবে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সমান অধিকার আছে, তাই এবার কোনো বৈষম্য রাখা হবে না’।

বৃত্তি বণ্টনে সরকার একটি নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করেছে—মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

অর্থনৈতিক সহায়তার পরিসরে মন্ত্রী জানান, ‘‘ট্যালেন্টপুলে’’ নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা পাবেন। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছর থেকে বৃত্তির এ অর্থ বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আছে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এবারের পরীক্ষা আয়োজন ও পরিচালনায় সরকার কঠোর নজরদারি করবে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অনিয়ম না ঘটে। পরীক্ষার সঠিক সূচি, কেন্দ্র ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য দ্রুত ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার এই পুনরায় আয়োজনকে মেধা যাচাইয়ের সমান সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার গুরুত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।