ঢাকা | রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বটতলার কালজয়ী নাটক ‘খনা’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শততম প্রদর্শনীতে

২০১০ সালের ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যাত্রা শুরু করা বটতলা নাট্যদলের কালজয়ী প্রযোজনা ‘খনা’ দীর্ঘ ১৬ বছরের গৌরবময় পথচলার পর আবারও একই প্রাঙ্গণে ফিরে আসছে। আগামী ১১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই নাটকের ঐতিহাসিক শততম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এই মাইলফলক উদযাপন করতে ১০ ও ১১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করেছে দলটি।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিষমুক্ত নিরাপদ কৃষিপণ্যের মেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা নিজেদের রাসায়ণিকমুক্ত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। মেলার মাধ্যমে ন্যায্য কৃষি চর্চা ও নিরাপদ খাদ্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপই আয়োজনকারীদের মূল লক্ষ্যের একাংশ।

উৎসবের প্রথম দিন ১০ এপ্রিল সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ শিশুদের কোলাহলে মুখর হবে। শিশুদের জন্য থাকবে ‘মাটির পাঠশালা’—মাটি দিয়ে নানা কারুশিল্পের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। এছাড়া শিশুদের দলীয় পরিবেশনা দর্শকদের মনোরঞ্জন করবে। বিকালে থাকবে যন্ত্রসংগীত, ব্রতচারী নৃত্য, বিভিন্ন নাট্যদলের গান, ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা ও ধুয়া গানের জমজমাট আয়োজন। সমগ্র উৎসব চলাকালে শহীদ মিনারের আঙিনায় অনুষ্ঠিত হবে ‘দর্শকের ক্যামেরায় খনা’ শীর্ষক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, যেখানে গত দেড় দশকের খনার মঞ্চায়নে দর্শকদের তোলা ছবির মধ্য থেকে সেরা ১০টি ছবিকে পুরস্কৃত করা হবে।

নাটকটি লিখেছেন সামিনা লুৎফা নিত্রা এবং নির্দেশনায় আছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। প্রাচীনকালীন মহীয়া নারী খনার জীবন ও সংগ্রামের আখ্যানের মাধ্যমে নাটকটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক: নারীর অধিকার, মেধা ও প্রজ্ঞার লড়াই ও কৃষিভিত্তিক সমাজে তার তীক্ষ্ণ প্রতিফলন দর্শকদেরকে অন্যাভিজ্ঞ এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনী নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তারা এই যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং শহীদ মিনারের খোলা মঞ্চে শততম প্রদর্শনী তাৎপর্যপূর্ণভাবে পূর্ণ হচ্ছে।

নাটকটিতে খনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী রোকসানা রুমা। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন ইভান রিয়াজ, ইমরান খান মুন্না, তৌফিক হাসান, হাফিজা আক্তার, চন্দন পালসহ বটতলার নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীরা।

উৎসবের সমাপনী দিনে, ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় শততম প্রদর্শনীর পর সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। বটতলা নাট্যদল এসব আয়োজনকে শুধুমাত্র একটি নাটকের উদযাপন হিসেবে দেখেনা—তাকে তারা মনে করেন সুস্থ সংস্কৃতি, প্রজ্ঞা ও নিরাপদ কৃষি চর্চার এক শৈল্পিক মেলবন্ধন হিসেবে। দলটি সব বয়স-স্তরের দর্শককে উৎসবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।