ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সৌদি আরবের কড়া হুঁশিয়ারি: ইরান হামলা বন্ধ না করলে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ নিশ্চিত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ বাড়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ও কঠোর হুঁশিয়ারি জানাল সৌদি আরব। রবিবার (৮ মার্চ) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান যদি আরব অঞ্চল লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো বন্ধ না করে, তবে তেহরানকে চলমান সংঘর্ষে ‘‘সর্বোচ্চ পরাজয়’’ নিশ্চিত করতে হবে।

রিয়াদ এই অবস্থান গ্রহণের সরাসরি প্রেক্ষাপট ছিল গত শনিবার শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা। বিবৃতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতায় কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ করেছে। রিয়াদ দাবি করেছে, পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আরব বিশ্বে নির্বিচারে আক্রমণ চালাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপদে ফেলছে। সৌদি সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘসময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তরণশীল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদির এই কড়া অবস্থান সংঘাতের গতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক আঘাতও বাড়তে পারে। তারা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রভাবশালী আরব রাজ্য যখন এত স্পষ্ট সঙ্কেত দিচ্ছে, তখন তা অঞ্চলীয় রাজনৈতিক ও সামরিক হিসেব বদলে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জাস্ট ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ নেই; তা ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশগুলোকেও আঘাত করছে। শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে হামলার পর রিয়াদের ধৈর্যচ্যুতি স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে এবং এখন নজর এড়িয়ে যায় না যে তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আনবে কি না।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিধর দেশের এই মুখোমুখি অবস্থা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং সাম্প্রতিক ঘটনার পর এ সংকট কিভাবে আরও গঠন নেবে, তা বিশ্ব রাজনীতির কাছেও বড় একটি পরীক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।