ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফ্যামিলি কার্ড পাইলটে সাড়ে ৩৭ হাজার নারী-প্রধান পরিবার ভাতা পাবেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে মোট ৩৭,৫৬৭টি নারী-প্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত এসব পরিবার প্রথমবারের ভাতা আগামী মার্চ মাসে, ঈদের আগেই হাতে পাবে।

মন্ত্রী সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ নারীবান্ধব সহায়তা হিসেবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নারী-প্রধান পরিবারগুলোকে নিয়মিত ভাতা পৌঁছে দিতে পরিকল্পিত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় বনানীর টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এলাকায় হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি কোনো যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, যাতে পরিবার উপযুক্ত সহায়তা পায়।

পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একই মূল্যমানের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা এই কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তারা যদি ইতোমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বন্ধ করা হবে; অবশ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ভাতা বা সহায়তা স্থায়ী থাকবে।

কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পাইলট পর্যায়ে আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৬ শতাংশ। বাকী ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ব্যবস্থাপনা গড়তোলা, কার্ড প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অন্যান্য খরচে ব্যয় করা হবে।

মন্ত্রীশ্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাইলট কার্যক্রম থেকে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কর্মসূচিটিকে বিস্তৃত করা হবে, যাতে বেশি সংখ্যক নারী-প্রধান দারিদ্র্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবার সুরক্ষার আওতায় আসে।