ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার মামলায় মোট ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। তাদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করার জন্য নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল Mিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। অন্যদিকে, জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার নারাজি জমা দেননি। এই কারণে আদালত আজ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। তবে, পলাতক থাকায় অন্তত ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার সংলাপ অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটের কাছে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন এক যুবক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ঐ যুবককে আটক করে প্রথমে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে মারধর শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদে, ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে মানসিক অসুস্থ বুঝে হলের ক্যান্টিনে চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বাঁধা হয় এবং কিছু ছাত্র তার উপর হকিস্টিক, স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে মারধর চালায়। এ সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পর翌 দিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, পুলিশে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এষ্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

তদন্ত শেষে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর, শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২1 শিক্ষার্থীসহ মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

তদন্তের স্বচ্ছতা না থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্তৃক দায়ের করা অভিযোগপত্রে নারাজি প্রদান করা হয়। 이후 ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ঢাকার তৎকালীন আদালত পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলার পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।