জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, কর্মকর্তাদের এবং কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের কারণে দেশের রাজস্ব আদায়ে কিছুটা বাধা আসছে। তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও ভ্যাট’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আমরা যে কোনো সংস্কার, আইন বা আন্দোলন করব, তা যেন শুধু নিজেদের জন্য নয়, দেশের বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে হয়।’’
এসময়, ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের গবেষণাপ্রধান ইমরুল হাসান তাদের পরিচালিত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন; যেখানে দেশের ১৫টি স্থানে ১,০২২ জন নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ভ্যাটের প্রভাব নিয়ে জরিপ চালানো হয়েছিল। জরিপ থেকে জানা গেছে, ৮৮% নিম্নআয়ের মানুষ দুঃস্থ অবস্থায় এক বেলা বিস্কুট বা পাউরুটি খেয়ে থাকেন এবং ৭০% তাদের প্রত্যাশা করছিলেন এই বাজেটে এই ধরনের পণ্যে কর কমানোর ব্যবস্থা হবে, যা বাস্তবে দেখা যায়নি।
এনবিআর চেয়ারম্যান এও জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার এই অর্থবছরে কমেছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না পড়ে। এছাড়া, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার হার গত বছর যেখানে ছিল পাঁচ লাখ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ। ব্যবসায়ী সুবিধা বৃদ্ধি করতে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মাধ্যমে ১৯টি সংস্থার ১১০ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন অনলাইনে দেওয়া হবে।
করনীতিতে রাজস্ব ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি আগামী বছর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা জন্য কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শুল্ক হার কমানো প্রয়োজন, যেহেতু কিছু পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৮০০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘যদিও পাউরুটি ও বিস্কুটের ভ্যাট বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যবসায়ীরা সেই বাড়তি ব্যয় তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কর আদায়ে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারের ঋণগ্রহণ ছাড়াও বিকল্প থাকে না।’’
এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সঞ্চালনা করেন। এনবিআরের এসব উদ্যোগ দেশের কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।









