অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে ‘সরকারি সেবার উন্নয়নে ক্রয় আধুনিকীকরণ’ (পিএমআইপিএসডি) নামক পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে ইউএনবির কাছে আসা সরকারি নথিতে।
প্রকল্পটিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের সকল সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে একক ও বাধ্যতামূলক ই-ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থা মাধ্যমে পরিচালিত করা, যাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
মোট প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক এবং বাকি ১১ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব বহন করবে বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিপিপিএয়ের ডেটা সেন্টারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উন্নত করে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হবে, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ এবং টেকসই পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সরকারের লক্ষ্য রয়েছে নিরাপদ, আধুনিক ও সময়োপযোগী তথ্য বিশ্লেষণ সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ব্যবহৃত হবে ওপেন কন্ট্রাক্টিং ডেটা স্ট্যান্ডার্ডস (ওসিডি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নের জন্য সব স্তরের অংশগ্রহণকারীদের জন্য চুক্তি ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক মধ্য-মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া, বহুল ব্যবহৃত পণ্যের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় জরুরি ক্রয়ের জন্য বিশেষ পদ্ধতিও প্রণয়ন করা হবে।
বিপিপিএর আধুনিকায়ন ও পূর্ণাঙ্গ কর্তৃপক্ষ হিসেবে রূপান্তরের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সরকারি ক্রয় আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের সফল ধারাবাহিকতা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপিপিএর তথ্যকেন্দ্র আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার দ্বারা উন্নত হবে, এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপদ, তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। আবার দুর্যোগের সময় দ্রুত ও কার্যকর সরকারি ক্রয় পদ্ধতি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারি ক্রয়চুক্তি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়ে মধ্য-মেয়াদি কৌশল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, আধুনিক সরকারি ইলেকট্রনিক ক্রয় তথ্যকেন্দ্র, চুক্তি ব্যবস্থাপনা, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট এবং ই-সই ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। ক্রয় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে এবং টেকসই সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে।
বর্তমানে বিপিপিএ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধান কার্যালয়ে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জাতীয় তথ্যকেন্দ্রে দুটি তথ্যকেন্দ্র পরিচালনা করছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলilde হয়েছে।
২০১১ সালে চালু হওয়া ই-ক্রয় ব্যবস্থা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরের মাইলফলক, যা দরপত্র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মূল্যায়ন, বরাদ্দ ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সমস্ত ধাপ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালনা করে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব হয়েছে।
সরকার আশা করছে যে, এই ই-ক্রয় ব্যবস্থা টেকসই ও আধুনিক সরকারি ক্রয়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, যা জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করবে।









