ঢাকা | বুধবার | ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মস্কোতে চিকিৎসাধীন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে রুশ রাজধানী মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাশিয়া নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যাত্রা মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ ও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ অনুসারে, ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার পুতিন ও মোজতবা খামেনির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনাল সংলাপ হয়। ওই আলাপচারিতার পরই বিশেষ সামরিক বিমানে করে তাঁকে মস্কোয় নিতে পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনায় ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত জোট ও নিকট সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে দৃষ্টি প্রশাসন করছেন।

ঘটনার পটভূমি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও মোজতবার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনির মা, বোন ও স্ত্রীসহ পরিবারের অনেকে প্রাণ হারান। মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে গেলেও শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে আহত হন। ইরানি সূত্রগুলো জানায়, তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তা বিপদমুক্ত বলেও বলা হচ্ছে, যদিও কিছু সংবাদমাধ্যম মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থাকে জটিল হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই সংবেদনশীল সফর ও হস্তক্ষেপ নিয়ে রাশিয়ার ক্রেমলিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের কাছে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি জানান, এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে তারা মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন। পুরো কার্যক্রমটি কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এমন একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে তাঁর রাশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও ইরানি প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার মাটিতে এই চিকিৎসা গ্রহণকে তেহরান ও মস্কোর পশ্চিমা শক্তি-বিরোধী সমর্থনের দৃঢ় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।