ঢাকা | সোমবার | ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

অস্ট্রেলিয়া পেট্রোল ও ডিজেলের কর অর্ধেক করার ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত থেকে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিস সোমবার (৩০ মার্চ) এক সরকারি ভাষণে জানিয়েছেন, দেশের ভেতরের জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক বোঝা কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত কর অর্ধেক করা হবে।

সরকারি ঘোষণার অনুযায়ী, বিশেষ এই করছাড় আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকারের হিসাব মতে, কর হ্রাসের ফলে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য প্রায় ২৬.৩ অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট কমে যাবে। এক হিসাব অনুযায়ী, ৬৫ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ফুয়েল ট্যাংক পূর্ণ করতে সাধারণ গ্রাহকরা প্রায় ১৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন। এছাড়া, নিত্যপণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের ওপর আরোপিত বেশ কিছু চার্জও এই তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ও পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপে সবাই একরকমভাবে আশ্বস্ত নন। ন্যাশনাল রোডস অ্যান্ড মোটরিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএমএ)-এর মুখপাত্র পিটার খৌরি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত কাঁচা তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—প্রতি লিটারে প্রায় ৩৩ সেন্টের মতো বাড়তি চাপ দেখা গেছে—যার ফলে সরকারের কর হ্রাসের সুবিধা অনেক ভোক্তার কাছে ততটা চোখে পড়বে না। তাঁর কথায়, বর্তমানে জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধির মূল কারণটি স্থানীয় কর নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে কাঁচা তেলের উত্থান।

জ্বালানি সংকটের তীব্রতা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সরকার এখনও নাগরিকদের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক রেশনিং বা ব্যবহার সীমাবদ্ধতা আরোপ করেনি। তবু পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন অপ্রয়োজনীয় যানবাহন চালানো ও অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার এড়িয়ে সাশ্রয়ী আচরণ মেনে চলা হয়।

সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমান অবস্থায় দেশটির জরুরি মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে প্রায় ৩৯ দিনের পেট্রোল এবং প্রায় ৩০ দিনের ডিজেল ও জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্ব দ্রুত প্রশমিত না হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া-সদৃশ উন্নত দেশগুলোকেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অতএব তিন মাসের এই করছাড়ের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ধারণা—গ্লোবাল সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে স্থায়িত্ব থাকা কঠিন। সব মিলিয়ে এ সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি প্রতিফলন বলে বিবেচিত হচ্ছে।