ঢাকা | শুক্রবার | ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ থেকে তেল আনা দেশগুলোকেই দায়িত্ব নিতে বললেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান ও উত্তেজনার মধ্যে শনিবার (২ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আর এই জলপথের একক পাহারাদার হিসেবে থাকা বন্ধ করবে না — বিশেষ করে যখন আমেরিকা এই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও তা করার নীতিতে নেই।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা হরমুজ প্রণালি থেকে সরাসরি লাভবান হচ্ছে—অর্থাৎ যেসব দেশ তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই জলপথে নির্ভরশীল—তাদেরই এখন এই প্রণালির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বিশ্বমঞ্চের প্রধান শক্তি ও মিত্র-দেশগুলোর প্রতি এটি একটি ঘোর অনুরোধ এবং এক ধরণের আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধ জোরদার করার আহ্বানও বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের পর ইরান যাতে তার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্বহালে ব্যস্ত থাকে, সেক্ষেত্রে তেহরানকে শেষ পর্যন্ত হরমুজ খুলতে বাধ্য হতে হবে। তার দাবি, যুদ্ধ থামলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত পড়ে যাবে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।

ভাষণের সবচেয়ে নাটকীয় ও উদ্বেগজনক অংশটি ছিল ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকি। তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে। তেহরানের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তিনি এক চূড়ান্ত আলটিমেটামও জারি করেন—নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তানুযায়ী নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে ধ্বংস করার সর্বোচ্চ সামরিক আঘাত করা হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ভাষণ দুটি দিকই দৃশ্যমান করছে: একদিকে হরমুজের নিরাপত্তা অন্য শক্তি ও আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য শক্তিপ্রয়োগের হুমকি। তেহরান এই ১৪ দিনের আলটিমেটামের বিরুদ্ধে কেমন প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই এখন নজরের কেন্দ্রে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ও ইরানের প্রতিউত্তর আগামী দিনগুলোতে ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে গঠন করবে।