সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও মধ্যপ্রচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন সংস্কার শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজের সময়সূচি পরিবর্তন, সংক্ষিপ্ত কর্মঘণ্টা এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এখন থেকে তাদের সরকারি গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি সরকারি গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ বন্ধসহ সব বিদেশি প্রশিক্ষণও স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, সরকারি দপ্তরগুলো এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু জরুরি পণ্য ও সেবা এই শর্তের বাইরে থাকবে, যেমন কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকান।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, আগামী কার্যদিবস থেকে এসব নির্দেশনা কার্যকর হবে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে এবং ব্যাংকের অন্যান্য কাজের জন্য বিকেল ৪টায় বন্ধ থাকবে। সরকারের ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন গাড়ি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আবাসিক শোভাবর্ধন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আলাদ নির্দেশনা দেওয়া হবে, যা কার্যকর হতে পারে রোববার থেকে।
সরকারের উদ্যোগে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি, যানজট কমানোর জন্য শুল্কমুক্ত মূল্যায়নে ইলেকট্রিক বাসের আমদানি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন বাস এখন থেকে শুল্কে ২০ শতাংশ কম লাগবে আর পুরোনো বাস আনা যাবে না। এ ছাড়া, বাজেট থেকে খরচ কমিয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারি কোনো নতুন গাড়ি বা কম্পিউটারও কেনা হবে না। সকল সরকারি কর্মকর্তা এখন থেকে বিদেশ ভ্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা-সেমিনার ও আপ্যায়নের খরচও অর্ধেক করা হয়েছে। তাছাড়া, জ্বালানি সংকটের সময়ে বেসরকারি অনুষ্ঠান ও বিয়োদি আয়োজনের আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশে তেলের সরবরাহ কিছুটা ঝুঁকিতে পড়ায় বিকল্প পন্থায় তেল আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিনিয়োগের খরচ কমাতে সরকারি ভর্তুকি চলমান থাকলেও, খরচ কমাতে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন খাতে অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন করে গাড়ি বা অন্যান্য বিদেশি সামগ্রী কেনার উপর ৩ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।








