ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে বিশ্ব বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি দামে বাড়তি চাপ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারকেও প্রভাবিত করছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এফএও’র খাদ্যমূল্য সূচক অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে গড়ে ২.৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য।

এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও পর্যাপ্ত পর্যায়ে ছিল। তবে যদি এই সংঘাত চলতি বছরের মাঝামাঝি বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং সারবাজারের দাম উঁচু থাকলে কৃষকদের জন্য কঠিন সময় আসবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ৩৫তম দিনে পৌছেছে। ম্যাক্সিমো তোরেরো আরও বলছেন, চাষিরা সংকট মোকাবেলায় কম সার ব্যবহার, জমির চাষ কমানো বা এমন ফসলের অধ্যায় শুরু করতে বাধ্য হবেন, যা ভবিষ্যতে ফলনের উপর প্রভাব ফেলবে এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে বাজে পরিস্থিতি তৈরি করবে।

জাতিসংঘের সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের মূল্যের বৃদ্ধি পেয়ে পাম অয়েল এখন ২০২২ সালের মধ্যবর্তী সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির উপর এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপক ও গভীর, যা লাখ লাখ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্প এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত, যা বিশ্বের নানা স্থানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।

এখনো পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা ইরানের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং, ইরানে হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগুচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।’