ঢাকা | সোমবার | ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আমাকে কখনও ডাকেননি: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে সেগুলোতে তাকে কখনও ডাকা হয়নি। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওই ধরনের বিষয় তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

তিনি জানান, ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর সংক্রান্ত আলোচনায়ও তাকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়নি। এ ধরনের আলোচনাগুলো ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কনসার্ন—সেই বিষয়গুলো কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়ে তিনি চালিয়েছেন।

অন্যদিকে লিগ্যাল ইস্যু, রাজনৈতিক বিষয় ও সংস্কারসূত্রি আলোচনা হলে তাকে ডাকা হতো। তিনি বলেছেন, যেখানে যাকে প্রয়োজন দেখা হতো, স্যার ওই ব্যক্তিকে বা উপদেষ্টাদের বসিয়ে কাজ করাতেন।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্ন ছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর ধরে সরকারের ভেতরে একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল—এমন অভিযোগ রয়েছে; এতে আপনারও সদস্য ছিলেন কি না। tähän প্রশ্নে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র-চুক্তি নিয়ে কোনো বৈঠকে তার উপস্থিতি ছিল না এবং ড. ইউনূসই সেই বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রতিক্রিয়া রেখে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোন সরকারই ছিল না যেখানে কিচেন কেবিনেট থাকেনি।’’ তিনি বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী থাকতেন; কেউ-কেউ হয়তো কিছু বিষয়ের জন্য অপরিহার্য ছিলেন না, তাই সব বৈঠকে রাখা হতো না।

একই সাক্ষাৎকারে তিনি এক সাবেক উপদেষ্টার কথাও উদ্ধৃত করেছেন। সেই উপদেষ্টা বলেছেন, ইউনূস সর্বকক্ষেত্রে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ছিলেন না, তবে শ্রম সম্পর্কিত বিধান বা লেবার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর আলোচনায় তিনি ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয় ও সিদ্ধান্তগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী। ভোটসংক্রান্ত আইনের খসড়া (ইলেকশন ল) ইলেকশন কমিশন আনার পর উপদেষ্টারা মিলিত হয়ে বিষয়টি আলোচনা করলে সেই সময় ওই সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে বেশি বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল—কারণ তার ইলেকশন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞতা ছিল।

আসিফ নজরুলের এই ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে যে, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও উপদেষ্টাদের দায়িত্ববণ্টন বিষয়গুলো প্রয়োজন ও দক্ষতা অনুযায়ী করা হতো, আর সব ক্ষেত্রেই তিনি যুক্ত ছিলেন না।