দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কাজে অনুপস্থিত থাকার কারণে ১৪ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি হওয়া একটি প্রজ্ঞাপনে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(গ) অনুযায়ী এ কর্মকর্তারা ‘পলায়নের অপরাধে’ অভিযুক্ত ছিলেন। বিধি ১২ উপবিধি (১) এর প্রেক্ষিতে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের সময় তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন। দেশ ও জনস্বার্থে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুলিশ সুপার, আটজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং দুজন সহকারী পুলিশ সুপার। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নাম প্রকাশিত বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন বরিশালের র্যাব-৮ এর সিপিএসসির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস. এম. শামীম, সুনামগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান, উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, রাঙ্গামাটির ডিআইজি এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্ল্যা, নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, রংপুর জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম সংস্থার টেলিকম অফিসার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান, কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারুল ইসলাম, ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার এটিইউ মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সিলেট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আখতারুল ইসলাম, টাঙ্গাইল নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস. এম. জাহাঙ্গীর হাছান, জামালপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আল ইমরান হোসেন।
অফিসে অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে এই অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্বপরায়ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








