শনিবার (২৩ জুন) ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের বৃহৎ মহাসমাবেশ আয়োজন করে। এসময় দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ১৬ দফার একটি ঘোষণা পাঠ করেন যা দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর দিক নির্দেশনা হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।
ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারব্যবস্থার উন্নতি এবং সমসাময়িক সৃষ্ট শাসনব্যবস্থায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের নীতিমালা অনুযায়ী ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর ভোট পদ্ধতি কার্যকর করা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করার ডাক দিয়েছে দলটি।
তার সাথে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারকে রুখে দিতে দ্রুত মৌলিক সংস্কার, জন প্রশাসন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে বৈষম্যবিহীন সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। দলটি ‘পতিত ফ্যাসিবাদ’ তথা অন্যায় শক্তির সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত সরকারি কর্মকর্তাদের অপসারণও দাবি করেছে।
দুর্নীতি মোকাবেলা ও দন্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের ফিরিয়ে আনা, পাচার হওয়া ঋণ ফিরিয়ে আনা এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডসহ জঘন্য অপরাধ দমনে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বারোপ রয়েছে ঘোষণাপত্রে। এছাড়া, ভারতের সঙ্গে সকল চুক্তি প্রকাশ এবং কোনো ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে স্থানীয় নির্বাচনের দ্রুত আয়োজন ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সেগুলো অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন দাবিও জোরদার করা হয়েছে। দলটি দুর্নীতিবাজ, ঋণ খেলাপি ও অপরাধীদের নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যত ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দেশের টেকসই শান্তি ও উন্নতি নিশ্চিত করতে শাসনব্যবস্থার সকল স্তরে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও সুবিচারমুখর সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।








