ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইসরায়েলের আক্রমণে যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘন’ অভিযোগ, ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে — এ খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ।

সমঝোতার আওতা নিয়ে থাকা অস্পষ্টতা এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন, দাবি করেছিলেন যে ইরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; অর্থাৎ হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণও বন্ধ থাকবে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। তারা বলেছে, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতি শুধু ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জারি থাকবে। আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড়’ ধরনের সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে।

ফারস নিউজ জানায়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর সকালে কেবল দুইটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শুরু হতেই ইরান বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করে দেয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করার অভিযোগ তোলেন। তেহরান থেকে সতর্ক করা হয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা ওই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের আলটিমেটামের পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল, যার প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমানো ছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবারও বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে। বর্তমানে কিছু শ’ তেলবাহী ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগর এলাকায় আটকে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পরিসংখ্যান ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। যুদ্ধবিরতির স্থায়ীত্ব ও অঞ্চলের পেট্রোলিয়াম রুটগুলোর নিরাপত্তা এখন অনিশ্চিত — পরবর্তী কিছু ঘণ্টা কূটনৈতিক এবং সামরিক উদ্যোগের দিকে নজর রাখতে হবে।