ঢাকা | শনিবার | ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল

২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশটি দেশের মানবাধিকার কাউন্সিলের কাঠামো ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। তবে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সংসদ বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই অধ্যাদেশটি রহিত করে নতুন একটি বিল উপস্থাপন করেন, যার নাম হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’। এ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন এই বিলের বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপটি দেশের অগ্রগতি এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এই বিলের মাধ্যমে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের কার্যক্রম পুনর্বহাল হচ্ছে যা পূর্বেও বিরোধীদের দমন ও ভিন্নমত দমন করতে ব্যবহৃত হয়েছে। হাসনাত আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই কমিশন বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোকে দমন করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি, কমিশনের একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের বক্তব্যও আমরা শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার নামে জামায়াত নীতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোও বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের বাতিল ও ২০০৯ সালের আইনে ফিরতে জাতির সামনে পশ্চাৎমুখী পথে হাঁটার সাক্ষ্য থাকবে। এটি দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগের বিষয়ে জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জনগনের জন্য এই বিলটি আলোচনাসাপেক্ষ। উনি সুন্দরভাবে বক্তৃতা করেছেন, কিন্তু তিনি মনে করছেন, এই বিলের প্রকৃত প্রকারভেদটা বুঝতে পারছেন না। বিভ্রান্তি এড়াতে বলে রাখা দরকার, এই বিলের লক্ষ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই লক্ষ্য।’

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘যদি এই অধ্যাদেশটি বাতিল হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনরায় কার্যকর না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা যাবে যে, বাংলাদেশে কোনও মানবাধিকার কমিশন নেই। এমন পরিস্থিতি থেকে দেশের ভাব-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। শেষে, সংসদ স্পিকার হস্তক্ষেপে এই বিল সবকটিতে কণ্ঠভোটে পাস হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এটি দেশের মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি নয়া দিক নির্দেশনা বলে মনে করা হচ্ছে।