ঢাকা | শনিবার | ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হবে

দেশজুড়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রথাগত প্রবণতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি এ কথা জানান শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে। এতে কৃষকেরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, যেখানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন, যা নিশ্চিত করবে লাভজনক পরিস্থিতি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দেশের বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আর থাকবেন না। ‘বাংলাদেশ থেকে এই প্রথা সম্পূর্ণরূপে মুছে যাবে,’ উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানের চক্রের কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে একাধিক হাতবদল হয়, যার ফলে মূল্য অনেক বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ চালুর মাধ্যমে এই বাধা দূর হবে এবং কৃষক ও ভোক্তার জন্য লাভজনক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাজারের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি, আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য পুরো সাপ্লাই চেনকে এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে বাজারের নজরদারি সহজতর হয় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে। তিনি বলেন, সরকার টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করবে। বর্তমানে টিসিবিতে সরকারের ভর্তুকি বছরপ্রতি ৩২ থেকে ৩৩ শ কোটি টাকা, যা ভবিষ্যতে কমানো হলেও কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।