ঢাকা | সোমবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বিমা খাতের উত্থানে শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

দীর্ঘ সময় পর দেশের শেয়ারবাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ বিমা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর উঠে আসায় বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় এবং লেনদেনও বাড়ে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর হিসাববছর শেষ হওয়ায় ২০২৫ সালের লভ্যাংশ ঘোষণার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। সেই প্রত্যাশাই এ খাতের শেয়ারদরে কদমে কদমে ঊর্ধ্বগতি এনেছে।

দিবস শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমে সূচক সাময়িকভাবে নিম্নমুখী হলেও আধাঘণ্টার মধ্যেই বিমা খাতের শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে এবং দিন শেষে এই ধারা বজায় থাকে। ফলে দিনের শেষে ডিএসইতে ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে, ১৪৫টির দাম কমে এবং ৬৬টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। বিমা খাতের মোট ৫৬টির মধ্যে ৫৪টির শেয়ারদর বেড়ে মাত্র দুইটির দাম কমেছে।

ভালো মানের বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ প্রদানের যোগ্য ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বাড়েছে, কমেছে ৭৩টির এবং ৩৩টির অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশের দাম বাড়েছে। ‘জেড’ শ্রেণির ৩২টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেলেও ৫২টির দাম কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ডে সাতটির দাম বেড়েছে, সাতটির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

শেয়ারদর বাড়ার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫,২৭১ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়ে ২,০০২ পয়েন্টে পৌঁছায়, তবে শরীয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১,০৬১ পয়েন্টে নেমেছে।

মূল সূচকের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ে; ডিএসইতে লেনদেন হয় ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার তুলনায় ৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিলেন লাভেলো আইসক্রিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কেডিএস এক্সসরিজ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বিডিকম অনলাইন ও গোল্ডেন সন।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ০.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ওঠে। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দাম বেড়েছে, ৭৮টির কমে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার তুলনায় কম।

সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রত্যাশা ও বিমা খাতের শেয়ারগুলোর শক্তিশালী প্রদর্শনের কারণে আজকের কার্যদিবসে বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এই ধারা বজায় থাকবে কি না তা নির্ভর করবে কর্পোরেট ফলাফল, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারগত চাহিদার উপর।