ঢাকা | সোমবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা: রুহুল কবির রিজভী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গায়িকা রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার সঙ্গে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিনভর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা রুহুল কবির রিজভী তীব্র ভ্রূকুটি প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, যখন কনকচাঁপা সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা দিতে যান। বগুড়ার কিছু নারী নেত্রী সেখানে হট্টগোল শুরু করে এবং কনকচাঁপার বিরুদ্ধে অনুরূপ অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান তুলে তাকে বিশৃঙ্খলের সামনে দাঁড় করান। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।

এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে প্রকাশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা এ ধরনের আচরণ করেছে তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক শাসনাভাব কাজ করে এবং তা ঠিক নয়। তিনি প্রশ্ন করেন, সেলিব্রেটিদের বিরুদ্ধে এমন আচরণ পৃথিবীর অন্য কোন দেশে দেখা যায় কি? রিজভী আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে সবাই একইভাবে কাজ না করলেও একজন সুপরিচিত শিল্পীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমর্থন দলের জন্য মূল্যবান। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি রাস্তায় না নামলেও দলের প্রতি সহযোগিতা বা সমর্থন জ্ঞাপন করে দাবি-প্রমাণ দিয়েছেন।

রিজভী স্পষ্ট করেছেন, যে কেউ যদি সম্মানিত একজন শিল্পীকে নির্বর্ণভাবে হেয় করে বা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে, তাদের বিরুদ্ধে দলের বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর কনকচাঁপাও একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তার রাজনৈতিক যাত্রা, দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ; দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আছে। কনকচাঁপার ভাষ্য—তার রাজনীতিতে যাত্রা শুরু ২০১৩ সালে; তৎকালীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা তার জন্য কঠিন ছিল, তবু তিনি নেত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ শুরু করেন।

তিনি স্মরণ করান, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের সঙ্গে মোকাবিলা করে নমিনেশন পেয়েছিলেন; সেই পথ সহজ ছিল না, ছিল বিপজ্জনক ও কষ্টসাধ্য। জেলা-উপজেলায় কাজ করে তিনি দলী বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নির্বাচনী কাজ করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় কষ্ট পেলেও সেটি মানেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য শতভাগই অটুট।

কনকচাঁপা লিখেছেন, দীর্ঘকাল ধরে নেতাকর্মীরা নানা রকম নির্যাতন ও কস্ট অবলম্বনে সামনে দাঁড়িয়েছেন—জেল, মামলা, আর তিনি নিজে মানসিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। একজন শিল্পী হিসেবে গান না গাওয়ায় তার জীবনের একটা বড় অংশ ছিন্ন হয়েছে; তাই তিনি নিজের সুরক্ষার জন্য ছবি আঁকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও রান্নাবান্নায় মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তার ত্যাগ ও ক্ষতি কি কোনো স্বীকৃতি পাবে না।

বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন—বছরভর অনলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনিত করেনি। কনকচাঁপার মনে হয়, কেউ কেউ এখনও তার নমিনেশন চাওয়ার বিপরীতে রয়ে গেছেন এবং মিথ্যাচার ও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

শেষে তিনি বলেছিলেন, তার ওপর করা অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন; তবু যদি দলের কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় তাতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। কনকচাঁপার বক্তব্য থেকে জোরালোভাবে বোঝা যায়—তিনি দলপ্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন, পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে অনাস্থাজনক প্রচারণাকে অবিচার মনে করছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সম্মান বহালের আকাঙ্খা রাখছেন।

ঘটনাটি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রুহুল কবির রিজভীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে কড়া অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।