ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা চাইলেন সালাহউদ্দিন

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা বা নির্দেশনা দিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট করা হোক। তিনি বলেন, ‘‘গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। লন্ডনের বৈঠকের পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময়সূচি এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে রমজানের আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।’’

শুক্রবার গুলশানের নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন এই মন্তব্য করেন। এর আগে ২৬ জুন অধ্যাপক ইউনূস এবং সিইসির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে তিনি জানান, ‘‘আমরা আশা করছি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বা নির্বাচন কমিশন আলোচনা বিষয়টি জনগণের সামনে প্রকাশ করবে।’’ বিএনপি নেতার মতে, ‘‘সবাই ধারণা করছে প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এবং রমজান শুরুর আগের সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে সিইসির কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত নয়। উভয় পক্ষ যদি এ বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করেন, তাহলে আমরা নিশ্চিন্ত হব।’’

আগে করা একটি বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএন নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সালাহউদ্দিন জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও অন্যান্য প্রস্তুতিসহ ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, সীমানা চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে শেষ হবে। নির্বাচনের জন্য পোলিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলমান আছে, যা বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়বে না।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দাবি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, ‘‘রাজনৈতিক দল যখন বিভিন্ন দাবি করে থাকে, তখনও বেশির ভাগ দল প্রধান উপদেষ্টার সূচিত সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে একমত। ক্ষুদ্র দলগুলোর স্থানীয় নির্বাচন দাবিকে কার্যত অবাস্তব মনে করা হচ্ছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সময়ের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন করানো প্রায় অসম্ভব, কারণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যায় পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগে। স্থানীয় নির্বাচন অগ্রাধিকার পেলে জাতীয় নির্বাচন ঠিক সময়ে করানো কঠিন হবে।’’

সালাহউদ্দিন আরও একবার জোর দিয়ে বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে বড় কথা। আমাদের লড়াই ভোটাধিকারের জন্য, স্থানীয় সরকারের জন্য নয়। এখন প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।’’