সরকার চলতি মাসেও এবং আগামী মাসেও মোট ১৬টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ, কোন সংকটের আশঙ্কা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং সরকার নিয়মিতভাবে এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, তাই গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একজন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৪টি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। তিনি আরো বলেন, আগামী মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা কেভালের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭টি নিশ্চিত হয়েছে, বাকি ৪টির কেনাবেচার প্রক্রিয়া চলমান। পেট্রোবাংলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানায়, চলতি মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪টি কার্গো এসে গেছে, যা অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যাঙ্গোলা থেকে কেনা হয়েছে। বাকি ৫ কার্গো আসার কথা রয়েছে এইভাগ থেকে, যার মধ্যে দুটি অস্ট্রেলিয়া থেকে, দুটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং একটি অ্যাঙ্গোলার হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও ৭টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি স্পট মার্কেট থেকে এবং ২টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার এলএনজির আমদানিকে উৎসাহ দিতে ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে তা অব্যাহত রেখেছে, যাতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গ্যাসের আউটপুট হার কমছে, তাই ক্রমশ আমাদের আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জ্বালানি ব্যয়ও বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্বস্তি ফিরে আসবে, আর না হলে এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকেও এলএনজি আমদানি সম্ভব, কারণ এই দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও ভালো। ড. বদরুল ইমাম বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিতে বড় কোনও কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বাধা নেই, তাই এসব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব। এসব দেশ থেকে কম খরচে ও সহজভাবে এলএনজি আমদানি সম্ভব, এবং এসব উৎসের কার্যকর ব্যবহার দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিশেষ সহায়ক হবে।









