ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই দশক পর আজ পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রায় দুই দশক পর আজ সোমবার পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার নিজ জেলায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ফিরছেন। সকালে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।

সফরের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা; তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিচার বিভাগের ডিজিটাইজেশন—দেশের প্রথম ‘ই-বেইল বন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকালে বগুড়া সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন এবং পরে সরাসরি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হবেন। সেখানে নবনির্মিত আধুনিক বার ভবন উদ্বোধন করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে ‘ই-বেইল বন্ড’ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করবেন। এখান থেকেই ধাপে ধাপে এই ডিজিটাল জামিন প্রক্রিয়া সারাদেশে চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরে শহরটিকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টিও শেষ হওয়ার পথে আছে। এছাড়া সফরের সময় আরও কিছু সরকারি কর্মসূচি কার্যক্রমে আনা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী অশীতিপর আবদুস সাত্তার বহু বছর ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটাটি দেখভাল করে আসছেন। জীবদ্দশায় তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন—তখন কখনও কিশোর, কখনও তরুণ তারেক রহমানকে দেখেছেন। এবার সেই তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সময় এসে গেছে বলে আবদুস সাত্তার জানান।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন, খুব আনন্দ লাগছে। দেশ যাতে ভালো চলুক, এটাই চাওয়া থাকবে।” ৮০ বছরের জীবনে একই পরিবারের তিন সদস্যকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখার অনুভূতিটা তাঁর কাছে অনবদ্য।

সাবেক সময়ের উল্লেখ রাখলে, ২০০৬ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারে পৈতৃক ভিটায় গিয়েছিলেন তারেক রহমান; এখন ২০ বছর পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাতারে ফিরে আবার আগমন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে গাবতলীর মানুষ উৎসবমুখর; অনেকেই বলেছেন, ‘‘একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখাই বড় পাওয়া।’’ যদিও সরাসরি কোন দাবি জানাতে যাচ্ছে না এলাকার বাসিন্দাদের বড় অংশ, তবু প্রত্যাশা আছে যে দীর্ঘদিন বঞ্চিত অঞ্চলটি দেশের প্রধান উন্নয়ন ধারায় দ্রুত যুক্ত হবে।

‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে সময় নষ্ট হওয়া, জামিন জালিয়াতি ও দালাল চক্রের সক্রিয়তা দেখা যেত। ডিজিটাল পদ্ধতি চালুকে এসব অভ্যাস বদলে যাবে। বগুড়া জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল মুবীন বলেন, ডিজিটালভাবে জামিননামা যাচাই ও কার্যকর হলে বন্দিদের স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং জামিন জালিয়াতি ও অসাধু চক্রের প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।

অপরদিকে, বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাসেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর মূল অনুষ্ঠান মাত্র ৩০ মিনিটের হলেও আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।