ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা: এক দিনেই দুইবার দর পরিবর্তন

দেশের স্বর্ণবাজারে বৃহস্পতিবার অনিশ্চয়তার সুর বাজল — মাত্র এক দিনেই স্বর্ণের দর দুই দফা পরিবর্তিত হলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সকালে দাম কমানোর ঘোষণার পর সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে ফের দর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালেই বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বাজুসের প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং কমিটির জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আবারও দর বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত এ মূল্য সন্ধ্যা ৭টা থেকে দেশব্যাপী কার্যকরি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই জরুরি সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

একই সঙ্গে রূপার মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেট রূপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা বজায় রাখা হয়েছে।

এক দিনে দুই দফা এই দামের ওঠানামা আলংকারিক ও রং-পুরনো ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও হতভম্ব করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কার্যত ক্ষুদ্র সময়ের মধ্যে দাম বদল হলে ক্রয়-বিক্রয়ে অসুবিধা ও অস্থিরতা দেখা দেয়; অপরদিকে ভোক্তারা ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মূল্যে তীব্র পরিবর্তন, জিওপলিটিক ও দামের সরবরাহ-চাহিদার অস্থিরতা এসব পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। বাজুস শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সময় দর সমন্বয় করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে— বড় ক্রয়-বিক্রয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বাজারের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। বাজুস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন মূল্যই কার্যকর থাকবে।