উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার উপর গত কয়েক দিন ধরে প্রবল ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে হাওর অঞ্চলসহ নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮টি নদীর স্টেশনে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি ক্রমাগত বেড়ে চলায় নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবনের মুখে পড়তে চলেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি একদিনের ব্যবধানে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, এখন বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলার অন্যান্য হাওর অঞ্চলে পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা ধীর, তবে পরিস্থিতি মোটের ওপর খুব স্বস্তির নয়। নেত্রকোনা জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। মগরা নদীর পানি নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে যথাক্রমে ৭৯ ও ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া, নেত্রকোনার কলমাকান্দার সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমলেও, এখনো বিপৎসীমার অনেক ওপরেই অবস্থান করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার বেশি। একই সময়ে, হবিগঞ্জে নতুন করে নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে। আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছেছে, আর সুতাং নদীর পানি সুতাং রেল ব্রিজের পয়েন্টে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জ ও হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, চাঁদপুরের বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও ভারী থেকে মাঝারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা বাংলাদেশে জলস্রোতকে আরও ত্বরিত করছে। চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড থাকাই, উজানের পানি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওর বেসিনের নদীগুলোর পানি স্তর সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে, উজানের বেশি বর্ষণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন।









