ভয়াবহ হামের প্রকোপ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণে আসছে না। টিকাদান কর্মসূচির শুরু সত্ত্বেও প্রতিদিনই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এই মারাত্মক রোগে, অনেকের মনের কোলে রয়েই যাচ্ছে জীবন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ থেকে ৮ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, তার মধ্যে শতকরা ৮০ শতাংশই মৃত্যুসংকদেশ্খ। এ পরিস্থিতিতে মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রান্তিক ও গ্রামগঞ্জে চিকিৎসা সুবিধা আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং এন্টিবায়োটিক ও অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এই সব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এবংের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ শিশু মারা গেছে, মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৪৫১। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এই বছর মার্চ মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয় এবং এই দুই মাসে প্রায় সাড়ে চারশো শিশুর মৃত্যু ঘটে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ হাজার। শিশুরা হামের টিকা নিয়েছেন, কিন্তু এন্টিবডি তৈরি হতে এখনও কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়, ফলে এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে, শিশুর মৃত্যু রোধে নির্ধারিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, হামের কারণে শিশুরা রাতকানা, নিউরোলজিক্যাল বহুবিধ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশু ডাক্তার ডা. রুহুল আমীন বলেন, হাম একটি খুবই সংক্রামক রোগ, যা খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়, তবে সঠিক সময়ে প্রতিকার পেলে শতকরা ৯৯ শতাংশ শিশুই সুস্থ হয়ে ওঠে। তিনি emphasizes করেন, প্রতিটি শিশুই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ জীবনধারা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ পুরো জাতির জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।
অপরদিকে, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, আমাদের থাকছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, কিন্তু যদি সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক ও অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়, তাহলে অনেক শিশু ঝুঁকি এড়াতে পারে। তিনি জানান, যে সময়ে হাসপাতালে শিশু আসে, তখনই ইনিশিয়াল স্ক্রিনিং করা ও দ্রুত রেফার করা জরুরি, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়। এইভাবে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।
প্রতি বছর পাঁচ বছরের নিচে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ২৪ হাজারের বেশি মরে যায়, এর মধ্যে চারজনের এক জনের কারণ হয় নিউমোনিয়া। দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছানো, অপ্রতুল পুষ্টি, বুকের দুধের অভাব ও টিকা না নেওয়ার কারণে এই মৃত্যু বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, গড়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। তাই উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই আরও শক্তিশালী করতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৮ শিশু মারা গেছে এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। একই সময়ে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭১১১ শিশু, এবং সন্দেহজনক হামে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশু।
এখন পর্যন্ত, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের কারণে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪ শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে, এবং ৩৭৭ শিশু হামের উপসর্গে মারা গেছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা করা ৭ হাজার ৪১৬ শিশুর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, ও अस्पताल ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর।








