ঢাকা | সোমবার | ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

হোলি আর্টিজান হামলার ৯ বছর: গুলশানের স্মৃতিতে রক্তের দাগ

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত জঙ্গি হামলার নয় বছরের পূর্তি আজ। ওই ভয়াবহ ঘটনায় সশস্ত্র জঙ্গিরা রাতের অন্ধকারে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে নির্মমতার সঙ্গে ২২ জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইতালির নয়, জাপানের সাত, ভারতের এক এবং তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক।

পুলিশি অভিযান চালানো কালীন সময় বোমা হামলায় নিহত হন বনানী থানার তৎকালীন ওসি সালাহউদ্দিন খান ও ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। হামলার পর গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক রিপন কুমার দাস এবং পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে হাইকোর্ট এই রায় পরিবর্তন করে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। রায়ের পেছনে আদালত উল্লেখ করেছে, সন্ত্রাসীদের নির্মমতা ও হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় আজীবন কারাদণ্ডই ন্যায্য শাস্তি।

হামলার দিনটি ছিল শুক্রবার, রাত পৌনে ৯টার দিকে নব্য জেএমবির সন্ত্রাসীরা বেকারিতে ঢুকে নির্বিচারে হত্যা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান শেষে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। ঘটনাটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস জঙ্গি হামলা হিসেবে পরিচিত।

এই হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, অভিযানে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অধিকাংশ সন্দেহভাজন সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিয়োগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।