ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সাজিদা অরেঞ্জ জিরো-কুপন বন্ডের ই-সাবস্ক্রিপশন শুরু

দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে — ‘সাজিদা অরেঞ্জ জিরো-কুপন বন্ড’-এর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি এবং ইস্যু ম্যানেজার ব্রাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশনের কার্যক্রম চালু করা হয়।

এটি ডিএসই’র নিজস্ব ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত প্রথম প্রাইভেট বন্ড, যা যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া ২৩ মে পর্যন্ত চলবে।

বন্ডের মোট অভিহিত মূল্য ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ইএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এই বন্ডটি তিনটি মেয়াদে (১, ২ ও ৩ বছর) সাজানো হয়েছে, যাতে তারা তাদের ঝুঁকি ও সময়সীমা অনুযায়ী পছন্দ করতে পারেন।

জিরো-কুপন বন্ড হিসেবে এই পণ্যে নিয়মিত কুপন বা সুদ প্রদান করা হয় না; বরং এটি ছাড়ে কেনা হয় এবং পরিণামে মেচ্যুরিটিতে এটি অভিহিত মূল্যেই পরিশোধ করা হয়—ফলে বিনিয়োগকারী একবারে মূল ফেরত পান। এ ধরনের কাঠামো উচ্চতর লিকুইডিটি ও সহজ সাবস্ক্রিপশন সুবিধা দিতে পারে।

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এই ধরনের উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো পুঁজিবাজারে বিকল্প আর্থিক সরঞ্জাম যোগ করে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এবং দেশের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খায়।

সাজিদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক বন্ডটির সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই ‘অরেঞ্জ বন্ড’ সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বন্ড থেকে যে অর্থায়ন হবে তা সরাসরি সামাজিক উন্নয়ন ও নারীসংক্রান্ত উদ্যোগে কাজে আসবে।

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ রাশেদ হোসেন বলেন, এই বন্ড বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিকমানের থিম্যাটিক বন্ড বাজার গঠনের ভিত্তি স্থাপন করবে। এটি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সামাজিক কল্যাণের পাশাপাশি আর্থিক রিটার্নও নিশ্চিত হবে।

ডিএসই’র নিকুঞ্জ অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, এই বন্ড বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনতে এবং বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।